মাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ‘বকশিস’ গুণতে হলো চিকিৎসককে

জেলা প্রতিনিধি
রংপুর
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৮ এএম
মাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ‘বকশিস’ গুণতে হলো চিকিৎসককে
ছবি : ঢাকা মেইল

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে রোগীর মৃত্যুর পরও শোকাহত স্বজনদের গুনতে হয় ‘বকশিস’ নামের উৎকোচ। বকশিস ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না এ হাসপাতালে।  

বকশিস না পেলে রোগীর স্বজনদের ওপর চড়াও হওয়া থেকে শুরু করে মারধরের ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত। এখানকার কর্মচারী, দালাল এবং বিভিন্ন পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো বকশিস সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের কাছে সবাই যেন জিম্মি।

এবার খোদ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীরের কাছে বকশিস দাবি করে ভাইরাল হয়েছে চুক্তিভিত্তিক কয়েকজন কর্মচারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন কর্মচারী এসেছেন ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে বকশিস নিতে। চিকিৎসকের পরিচয় পেয়েও বকশিসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা বকশিস নিয়ে ছাড়েন।

ভুক্তভোগি চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর ওই হাসপাতালের অর্থোসার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর (রোববার) বকশিস চাওয়ার এ ঘটনা এবং রোগী হয়রানি বিষয়ে ডা. এ বি এম রাশেদুল আমীর রমেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠিয়েছেন। 

লিখিত অভিযোগে রাশেদুল আমীর বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন স্বজনরা। জরুরি বিভাগে ভর্তির জন্য ২৫০ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মা পরিচয় জানতে পেরে তারা ৫০ টাকা ভর্তি বাবদ নেন। যদিও হাসপাতালে নির্ধারিত ভর্তি ফি ২৫ টাকা এবং সরকারি কর্মকর্তার মা এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসাবে ভর্তি ফি না নেওয়ার কথা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভর্তি পরবর্তী সিসিইউতে তার অসুস্থ মাকে নেওয়া হলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্মরত দুজন জোরপূর্বক তার ব্যক্তিগত সহকারীর কাছ থেকে ২০০ টাকা বকশিস নেন। এসময় তাদের আমার নাম পরিচয় এবং রোগী সম্পর্কে জানানো হলে তারা বলে ‘যে স্যারের মা হোক, আর যাই হোক টাকা দিতে হবে’। 

চিকিৎসক বলেন, পরবর্তীতে আমি রাতে আসার পর মায়ের শয্যা পাশে অবস্থানকালে সিসিইউতে কর্মরত ওয়ার্ড বয় পরিচয়ধারী মাসুদ আমার কাছে সরাসরি টাকা দাবি করে। এসময় আমি সেই কথাবার্তার কিছু মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করি।

রাশেদুল আমীর আরও বলেন, ‘এই ঘটনা আমার কাছে অত্যন্ত মানসিক পীড়াদায়ক এবং অপমানকর। যে প্রতিষ্ঠানে আমি সেবা দিয়ে যাচ্ছি, সেখানে আমি হয়রানির শিকার হচ্ছি, তা সত্যি দুঃখজনক। আমি নিজে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা হয়েও যদি হয়রানির শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা তো সহজেই অনুমেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। সেই সাথে বকশিস ও হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

প্রতিনিধি/এইচই