ভাদ্রা শিমে লাভের আশা নওগাঁর চাষিদের

সুমন আলী নওগাঁ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৩ পিএম
ভাদ্রা শিমে লাভের আশা নওগাঁর চাষিদের

নওগাঁকে বলা হয় খাদ্যভান্ডারের জেলা। ধান-চাল ও আমের পাশাপাশি সবজিতেও সমৃদ্ধ এই জেলা। ইতিমেধ্য নওগাঁয় বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম নতুন শিম। বাজারে শিমের ভালো দামে থাকায় ভালো লাভবানের আশা করছেন চাষিরা।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয়েছে নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ও কীর্তিপুর ইউনিয়নে।

সদর উপজেলার বর্ষাইল ও কীর্তিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ দৃষ্টি জুড়ে সবুজ শিম ক্ষেত। মাঠ জুড়ে শিমের লতা-পাতার সবুজ সমারোহের মাঝে ফুটে থাকা গোলাপি সাদা ফুলের সাথে বাতাসের দৃষ্টিনন্দন লুকোচুরি। নজর কাড়বে যে কারো। এর মধ্যেই কিছু কিছু গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। সেগুলো শিম ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে নিয়ে আসলে ভালো দামও মিলছে।
 
চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই শিম কৃষকদের কাছে ভাদ্রা শিম (ভাদ্র মাসের শিম) নামে পরিচিত। শিম চাষের জন্য জৈষ্ঠ্য মাসে জমি প্রস্তুত করে রোপণ করতে হয়। রোপণের তিন মাসের পর ফুল আসা শুরু। এবং বাজারে শিম বিক্রি শুরু হয়। এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিক্রি হয় ১ লাখ টাকার বেশি। এতে করে এই শিম চাষে ভালো লাভবানের আশা করছেন চাষিরা। তবে অতিরিক্ত রোদ, গরম ও পোকার আক্রমণে ফুল ঝরে যাওয়ায় এখনও আশানুরূপভাবে ক্ষেত থেকে শিম তুলে বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা।
been naogaonসদর উপজেলা বর্ষাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের শিম চাষি আজিজুল বলেন, জৈষ্ঠ্য মাসে জমি প্রস্তত করে দেড় বিঘা জমিতে আগাম জাতে শিম চাষ করেছি। ১ বিঘাতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে খরচ হয়। শিমের ক্ষেতে ফুল এসে গেছে কিন্তু শিম কেবল ফুটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এতদিনে প্রায় ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতাম। কিন্তু অতিরিক্ত রোদ, গরম ও পোকার আক্রমণে শিম ধরতে দেরি হচ্ছে। কিটনাশক দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

আরেক শিম চাষি মোমতাজুল ইসলাম বলেন, এবার প্রায় ২ বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছি। কয়েকদিন আগে ক্ষেত থেকে ৭ কেজি শিম তুলেছিলাম। পরে বাজারে ১২০ থেকে ১৫০ কেজিতে বিক্রি করেছি। বর্তমান বাজারে শিমের দাম ভালো আছে। এই রকম দাম থাকলে একবিঘা জমি থেকে ১ লাখ টাকার বেশি শিম বিক্রি করতে পারবো। কিন্তু আসতে আসতে শিমের দাম কমে যায়।

বাবুল হোসেন বলেন, ১০ কাঠা জমিতে আগাম শিমের আবাদ করেছি। প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাজারে ৫ কেজি শিম বিক্রি করেছি। বর্তমানে শিমের দাম ভালো। এভাবে দাম থাকলে ভালো লাভবান হওয়া যাবে। প্রথমে পোকার আক্রমণে ফলন একটু কম হলেও, পরবর্তীতে ফলন বেশি হয়। যখন ফলন বেশি হয় তখন আর আগের মতো দামও পাওয়া যায় না।
been naogaonনওগাঁ সদর উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রতন আলী বলেন, যারা আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন তাদের অনেকের জমিতেই ফুল এসেছে। আবারও অনেকের জমিতে শিমও ধরতে শুরু করেছে ও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই শিমের ভালো দাম বাজারে রয়েছে। আশা করি, আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আগাম জাতের শিম চাষ করেছে তারা লাভবান হবেন।
 
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিমের যে শোষক পোকা এইটার আক্রমণ একটু বেশি। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকরা শিমসহ যেসব আগাম জাতের সবজি চাষ করেছে তাদেরকে পোকামাকড় দমনসহ সব সধরনের পরামর্র্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আধুনিক চাষাবাদ ও বিষমুক্ত সবজি চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এএ