কুমিল্লায় কিশোরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
 কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২২, ১১:২৪ পিএম
কুমিল্লায় কিশোরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
নিহত কিশোর শাহাদাত। ছবি: ঢাকা মেইল

কুমিল্লায় মো. শাহাদাত হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা নগর উদ্যানের পাশের কাস্টমস অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহাদাত নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার হোমিওপ্যাথিক কলেজের ডান পাশের বশু মিয়ার বাড়ির মো. শাহ আলম ভূইয়া ও শাহানারা বেগমের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, শুক্রবার বিকেলে নগর উদ্যান শিশু পার্কে রাইডে চড়তে আসে একদল কিশোর। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। শিশু পার্কে প্রবেশের পর তারা রাইডের স্টাফ শাহাদাতের কাছে ফ্রিতে রাইড চড়তে চায়। কিন্তু শাহাদাত ফ্রিতে রাইড চড়তে তাদের অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। শাহাদাত পার্ক সংলগ্ন কুমিল্লা মিশনারি স্কুলের সামনে এলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

স্থানীয়রা আহত শাহাদাতকে প্রথমে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

ওসি মো. সহিদুর রহমান রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেইলকে বলেন, শুনেছি সে পার্কের রাইডের স্টাফ ছিল। রাইডের মালিক বলেছে শাহাদাত ১৫ দিন আগে চাকরি ছেড়ে চলে যায়। হয়ত আগে রাইড চড়তে না দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খুনের আলামত জব্দ করেছি। সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। বেশ কয়েকজনের নামও পেয়েছি। আসামিদের ধরতে আমরা অভিযানেও নেমেছি। তদন্ত করছি, বিস্তারিত পরে আপনাদের জানাবো।

রাইডের মালিক তাজুল ইসলাম জনি বলেন, সে বেশ কয়েক দিন আমার এখানে চাকরি করেছে। কিন্তু ১৫ দিন আগে চাকরি ছেড়ে দেয়। শুক্রবার বিকেলে সে নগর উদ্যানে ঘুরতে আসে। সেখানে এলে স্থানীয় মফিজাবাদ কলোনির হাসিব ও রতন নামের দুজন ছেলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কাস্টম অফিসের সামনে যাওয়ার সাথে সাথে তাকে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাত করে। দুজন মিলে প্রকাশ্যে সবার সামনে তাকে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। পরে উপস্থিত সবাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন নাফিস ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শাহাদাতকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে। অতিরিক্ত আঘাত আর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়।

প্রতিনিধি/জেবি