মুন্সিগঞ্জের ইছামতি নদীর ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বেইলি সেতুর জায়গায় এবার নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক দুই লেনের সেতু। প্রায় ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এই সেতু ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি কৃষিপণ্য ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনেও আসবে গতি।
রোববার (বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে) ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর সড়কের কুন্ডেরবাজার এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। সমাবেশে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
এ সময় আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিভিন্ন অপকর্ম, দুর্নীতি, দুঃশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে কথা বলেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মামলার রায় হয়েছে, আবার কিছু অভিযোগের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং বর্তমানে পলাতক বা ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে চিহ্নিত, তাদের দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত। দেশে ফিরে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও জানান তিনি। আদালতের রায় অনুযায়ী সরকার ও বিচার বিভাগ স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অবকাঠামো নতুনভাবে সাজাতে চায়। এ লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলো ১৮ ফুট প্রশস্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (ঢাকা জোন)’-এর আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ (হাসাড়া)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর জেলা মহাসড়কের (জেড-৮০০৪) ষষ্ঠ কিলোমিটারে থাকা পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর পরিবর্তে এটি নির্মিত হবে।
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্টিল কম্পোজিট কাঠামোর সেতুটি নির্মাণ করা হবে। ১৫১ দশমিক ৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি হবে দুই লেনের। এর সঙ্গে থাকবে ৬০০ মিটার সংযোগ সড়ক এবং নদীতীর সংরক্ষণের কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সেতুটি মুন্সিগঞ্জ, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদীখান উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আলু, ধান, গমসহ স্থানীয় কৃষিপণ্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে।
উল্লেখ্য, পুরোনো বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত অবস্থায় থাকায় এই পথে চলাচলকারী যানবাহনকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন সেতুটি নির্মিত হলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
প্রতিনিধি/এসটি




