বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে বরিশালের উজিরপুরে বায়জিদ মিঠু নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়। পরে তার মুঠোফোনে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বায়জিদ উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসাবাড়ির জানালা ও বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নারীদের অজান্তে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও দিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে পৌর এলাকার এক গৃহবধূর বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন বায়জিদ। বিষয়টি ওই নারীর নজরে এলে তিনি চিৎকার করেন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে আটক করেন। এ সময় তার মুঠোফোনে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও দেখতে পান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করেন।
খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের দুটি গ্যালারিতে অসংখ্য পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া গেছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রোববার বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বায়জিদ মিঠুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব মো. কামরুল আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পি।
প্রতিনিধি/এলএ




