রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দাগনভূঞায় বিএনপির র‍্যালি ঘিরে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

দাগনভূঞায় বিএনপির র‍্যালি ঘিরে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে ফেনীর দাগনভূঞায় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে উপজেলা শহরে কিছুক্ষণের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

রোববার বিকেল (৮ অক্টোবর) সোয়া ৪টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে থেকে র‍্যালি বের করে বিএনপি এতে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি উপলক্ষে শহরে র‍্যালির আয়োজন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। র‍্যালিটি শহরের সরকারি আতাতুর্ক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় গেইটে পৌঁছালে নিউ সুলতান মার্কেট ও জিরো পয়েন্টে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন থমকে দাঁড়ালে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে পথচারীদের ছুটোছুটি করতে দেখা যায়।

র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আকবর হোসেন বলেন, দাগনভূঞার মাটিতে কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। 

তিনি বলেন, বিএনপি বড় দল হওয়ায় অনেক কর্মী-সমর্থক নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছেন। সব মান অভিমান ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান আকবর।

র‍্যালি শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা কলেজ রোডের দিকে যাওয়ার সময় ফের মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‍্যালির আগে ও পরে অর্ধ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া দুই শতাধিক লোক বিশেষ পোশাক, হেলমেট ও মাস্ক পরে লাঠি হাতে র‍্যালিকে সুরক্ষা দিতে দেখা যায়। তাদের হাতে থাকা ব্যাগে বিশেষ কিছু ছিল। তবে ককটেল বিস্ফোরণে কারা জড়িত- তা বলতে পারেনি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ। 

দাগনভূঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে- তা জানা নেই বলেও জানান তিনি।

র‍্যালিতে জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুর রহমান রতন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বাহাদুর, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কবির আহম্মদ ডিপলু, যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন ভূঞা হুদন, নাসির উদ্দিন, ছাত্রদল সভাপতি সাইমুন হক রাজিব উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে অনুষ্ঠান ঘিরে দুপুর থেকেই শহরে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অবস্থান নেয়।

এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই গ্রুপের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হন। এক বছর আগেও ৫ আগস্ট দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। সে ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সময় থেকেই দাগনভূঞা বিএনপিতে কোন্দল বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করে। উপজেলা শহরে কযেক দফাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক সংঘর্ষ ঘটে আকবর হোসেন ও বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের মধ্যে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর