রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৫০০ টাকার বাজি ধরে লবণ-সোডা খেয়ে হাসপাতালে মুমূর্ষু বৃদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

৫০০ টাকার বাজি ধরে লবণ-সোডা খেয়ে হাসপাতালে মুমূর্ষু বৃদ্ধ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ লক্ষণ চন্দ্র পাল। ছবি: ঢাকা মেইল

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে প্রতিবেশীর সঙ্গে ৫০০ টাকার বাজিতে এক কেজি লবণ ও প্রায় দেড়শ গ্রাম সোডা খেয়ে ৭৫ বছর বয়সী লক্ষণ চন্দ্র পাল নামে এক বৃদ্ধ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

লবণ ও সোডা খাওয়ার কিছু সময় পরই তিনি উন্মাদের মতো আচরণ শুরু করেন। এসময় হাতের কাছে যাকেই পেয়েছেন, তাকে মারধর ও কামড়ে দেন।

পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।

লক্ষণ চন্দ্র পাল খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর (পালপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। 

গত শুক্রবার সকালে মেন্দিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে মমেক হাসাপাতালে পাঠানো হয়। 

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী লক্ষণ পালের ছেলে সুজিত চন্দ্র পাল জানান, তার বাবা সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। প্রতিবেশী মিল্টন পাল ও পিয়াস পাল তাকে এক কেজি লবণ ও প্রায় ১৫০ গ্রাম সোডা খেতে পারলে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে বাবা একটি জগে পানি নিয়ে লবণ ও সোডা মিশিয়ে পান করেন।

সুজিত চন্দ্র পাল বলেন, এসব খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার বাবা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। হাতের কাছে যাকে পাচ্ছিলেন, তাকেই মারধর ও কামড় দিচ্ছিলেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও চিনতে পারছিলেন না। তাকেও মারধর ও কামড় দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে বাবাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই দিন রাতেই তাকে অচেতন অবস্থায় সেখানে ভর্তি করা হয়। পরে  শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অক্সিজেন দেওয়া হয়। এখনো তিনি নিজে থেকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। শয্যার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে আজ রোববার মাঝেমধ্যে ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন।

সুজিত চন্দ্র পালের অভিযোগ, তার বাবাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশে টাকার লোভ দেখিয়ে লবণ ও সোডা খাওয়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিল্টন পাল ও পিয়াস পালের বিরুদ্ধে সোমবার থানায় অভিযোগ করবেন।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, গত শুক্রবার বিকাল পাঁচটার দিকে লক্ষণ পালকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন স্বজনরা। অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ ও সোডা খাওয়ার কারণে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। 

তবে অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মেন্দিপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার খোকন মিয়া বলেন, এলাকায় ছিলাম না, এখন এসে শুনতে পারলাম বিষয়টা। আসলে যে জিনিস খেলে ক্ষতি হবে, এমন কিছু নিয়ে বাজি ধরা ঠিক না। লক্ষণ পাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মেন্দিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাকিম বলেন, লক্ষণ পাল সহজ সরল মানুষ। বাজি ধরে তিনি এসব লবণ-সোডা খেয়েছেন বলে শুনেছি। লবণ-সোডা খাওয়ার জন্য যারা বাজি ধরেছেন তারাও তার প্রতিবেশী।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন বলেন, এমন ঘটনা জানা নেই। এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর