শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

রাঙামাটির সাধনানন্দ বন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব

জেলা প্রতিনিধি, রাঙামাটি
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

রাঙামাটির সাধনানন্দ বন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব
বিহার প্রাঙ্গণে আনন্দ শোভাযাত্রা। ছবি: ঢাকা মেইল

রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়নের হাজারীবাক সাধনানন্দ বনবিহারে ১৫তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সীমাঘর (ঘ্যাংঘর) ও কুঠির উদ্বোধন করা হয়।

এ উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী উপস্থিত ভিক্ষু সংঘের নিকট বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান, হাজার বাতি দান, পঞ্চশীল প্রার্থনাসহ নানাবিধ দান আয়োজন করা হয়। 

দুপুরে কঠিন চীবর ও কল্পতরু প্রদক্ষিণ করে পুরো বিহার প্রাঙ্গণে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো পূণ্যার্থী ঢল ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও ধর্ম সভায় অংশগ্রহণ করেন। পূণ্যার্থীদের অংশগ্রহণ ও ভক্তি শ্রদ্ধায় মুখর হয়ে উঠে সাধনানন্দ বনবিহার।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- সাবেক উপমন্ত্রী ও বিহার পরিচালনা কমিটির পৃষ্ঠপোষক মনি স্বপন দেওয়ান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ত্রিলোচন চাকমা, সম্পাদক অতুল চাকমাসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে বুদ্ধের বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে ধর্ম সভায় ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন সুবলং শাখা বনবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ বুদ্ধশ্রী মহাস্থবির, রাজবন ভাবনাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির, কান্দেবছড়া বনবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ করুনাকীর্তি মহাস্থবির, বেনুবন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ পন্থক মহাস্থবির।

ধর্মদেশনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বলেন, ভগবান বুদ্ধ সবর্দা উপদেশ দিতেন কাউকে হিংসা না করে মৈত্রী প্রদান করা। মৈত্রী প্রদানের মাধ্যমে শত্রুকে জয় করা। তাই কোনো প্রাণী বা ব্যক্তির ওপর হিংসা মনোভাব না করা। একে অপরের প্রতি মৈত্রী স্থাপিত হলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু তাই নয়, গৃহী জীবনে পঞ্চশীল পালন ছাড়া পরিবারে উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবারে বাবা-মা শীলবান হলে তাদের সন্তানও শীলবান হয়। সেজন্য পঞ্চশীল পালনের মাধ্যমে দানশীল ও ভাবনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্ববান জানান বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

প্রসঙ্গত, তুলা থেকে সুতা তৈরি করে রঙ করে তা শুকিয়ে কাপড় বুনা হয়েছিল। সেই কাপড় সেলাই করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিক্ষুদের দান করা হয়। এ কাপড়টিকে চীবর বলা হয়-  যা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র। এ কঠিন চীবর দান বৌদ্ধদের বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর