খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন বিষয়ক সুধী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সমাবেশ হয়।
এমপি শ্যামল বলেন, সমাজে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। তাদের আরো সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের কারণে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। যারা এসব সংঘর্ষে জড়িত হয়ে মানুষ হত্যা করছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুঃখজনক বিষয় হলো, সংঘর্ষের পাঁচ-ছয় মাস পর সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমি এ ধরনের আপস-মীমাংসার পক্ষে নই। যারা মানুষ হত্যা করে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমবে। সবকিছুর আগে আমাদের সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে।
পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( মানব সম্পদ) মো. গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈনুল ইসলাম চপলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, যারা স্বামীর ঘরে নির্যাতন হবে- সে আমার বোন, কন্যা হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে সমাজে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এ ধরনের সংঘাতের পেছনের কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, চুরি, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি,যৌতুকের কারণে নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।
সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এলএ




