ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া ও আশপাশের এলাকায় এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা একটি কারখানার দুটি ফটক ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আশুলিয়া ও সাভারের ৭০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেন শ্রমিকেরা। কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করেন। পরে কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে জামগড়া এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শিল্প পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এদিকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকায় ফেব্রিকা নিট কম্পোজিট কারখানার সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এ সময় তারা কারখানাটির দুটি ফটক ভাঙচুর করেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশপাশের কয়েকটি কারখানাও ছুটি ঘোষণা করে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাভার ও আশুলিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বেশ ভালো। তবে কয়েকটি এলাকায় অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা থাকায় ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে ৭০টিতে ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাকি কারখানাগুলোতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকালে জামগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর কিছু দুষ্কৃতকারী কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তাদের কয়েকজনকে আটক করার পর পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানার সামনে ও আশপাশে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও অবস্থান করতে দেখা যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ডিইপিজেড) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
গত তিন-চার দিন ধরেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আশুলিয়া ও সাভার থানায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কেউই শ্রমিক নন। এ ঘটনায় আটটি মামলা হয়েছে। আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকেরা কারখানা, রাস্তাঘাট ও নিজেদের আবাসস্থল সব জায়গায় নিরাপত্তা পাবেন। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের আবাসস্থলগুলোতে পুলিশের মোবাইল ও টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি কারা শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এআরএম




