বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কালীগঞ্জে সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

কালীগঞ্জে সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথি ও মৌজা ম্যাপে জায়গাটি খাল হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও সেখানে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা। এদিকে খালের জায়গায় সরু ড্রেন নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে শহর ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় সরকারি খালের ওপর ১৬৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে কালীগঞ্জ পৌরসভা। এ কাজে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে কাজটি দেখভাল করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন।

অন্যদিকে, একই খাল খননের জন্য ২০২৬ সালের ১ মার্চ ঝিনাইদহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকের কাছে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্যাডে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ।

35e75aae-5c9a-4aae-b729-d7d27a5e2040

সরেজমিনে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খালের মধ্যে শ্রমিকরা ড্রেন নির্মাণের কাজ করছেন। সেখানে ড্রেনের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল।

পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগ সরকারি খাল হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এর মধ্যে ২৬০১ নম্বর দাগের খালে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। নিশ্চিন্তপুর মৌজার সরকারি মানচিত্রেও স্থানটি খাল হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে সরকারি খালের নামে সাড়ে ৩২ শতক জমি রয়েছে। খালটির অনেক জায়গায় প্রস্থ ছিল ১৫ থেকে ২০ ফুট। সেখানে এখন ৮ ফুট প্রস্থের ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান সরকার খাল খননে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অথচ কালীগঞ্জে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে কয়েকটি গ্রামের পানি চিত্রা নদীতে প্রবাহিত হয়। ড্রেন নির্মাণ করা হলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ষায় খালে পানির চাপ বেড়ে গেলে ৮ ফুটের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে না বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের দাবি, এতে সরকারি অর্থের অপচয় হতে পারে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুক্তার হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খালটি দিয়ে পৌরসভার কয়েকটি গ্রাম ছাড়াও উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের শিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৭টি গ্রামের পানি শহরের ভেতর দিয়ে চিত্রা নদীতে যায়। এই খালে ড্রেন নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হতে পারেন।

5c8f7126-6143-4629-b1b8-65b248b6214d

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু কালীগঞ্জে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। পৌরসভার উদাসীনতায় খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, তার লাইসেন্সে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু কাজটি করছেন। আশরাফুল ইসলাম তার জামাতা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি পিন্টুর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়ভাবে কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু তার শ্বশুরের লাইসেন্সে কাজটি করছেন। এ ধরনের কাজ ছোট লাইসেন্সে করা যায় না। খাল নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। তবে কাজ শুরুর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুই গ্রামের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান বলেন, যেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি জনসাধারণের জায়গা। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে এবং রেজুলেশনের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার নায়েব খোকন কুমার দাস বলেন, সরকারি নথিতে জায়গাটি খাল হিসেবে রয়েছে। ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সাড়ে ৩২ শতক জমি সরকারি খাল হিসেবে রেকর্ডভুক্ত।

পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌরসভার সার্ভেয়ার জানিয়েছেন, খালের জায়গা রাস্তার মধ্যে চলে গেছে। বর্তমানে যেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি জনসাধারণের জায়গা। সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনগণ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেই ড্রেন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খাল খননের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর