কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের পর উদ্বোধন করা হলেও ছয় বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি পিরোজপুর পৌরসভার আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলসংকট এবং প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় অচল হয়ে পড়ে আছে স্টেশনটি। ফলে একদিকে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী, অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পৌরসভা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় লক্ষাধিক মানুষের শহর পিরোজপুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও পরিবেশদূষণ কমানোর লক্ষ্যে ‘সিটিইআইপি’ (CTEIP) প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে চার একর জমির ওপর প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়।
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল শহরের বর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা এবং সার বিক্রির মাধ্যমে পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়ানো।

তবে নির্মাণের ছয় বছর পরও প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ছাঁকনি, আধুনিক সংগ্রহব্যবস্থা ও ল্যান্ডফিলের পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনো পুরোপুরি স্থাপন করা হয়নি। এর সঙ্গে রয়েছে জনবলসংকট।

ডাম্পিং স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় পিরোজপুর শহরের বর্জ্য আগের মতোই খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নির্মাণ করা হলেও তারা এর সুফল পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে ডাম্পিং স্টেশনে কাজ করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরাও।

ডাম্পিং স্টেশনটিতে পরীক্ষামূলকভাবে জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব হলেও তা বাজারজাত করা যাচ্ছে না। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় উৎপাদিত সার গুদামে পড়ে রয়েছে। এতে সার বিক্রি থেকে পৌরসভার আয় করার সম্ভাবনাও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় সার বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরসভা। অনুমোদন পাওয়া গেলে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলে প্রকল্প থেকে পৌরসভার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

শহরের নাগরিক সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি দ্রুত দূর করে ডাম্পিং স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক। তাদের মতে, প্রকল্পটি কার্যকর হলে পিরোজপুর শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমবে এবং পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়বে।
প্রতিনিধি/এসএস




