মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে মাজারে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের জানায়, রাতে জাহেদ বেপারীকে বাড়ি থেকে মাজারে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানে কোপানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে এলে পরিবারের লোকজনের সামনেও তার ওপর আঘাত করা হয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত জাহেদকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করেন। এরপর রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই জাহেদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
বর্তমানে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা আজই মরদেহ মুন্সিগঞ্জে নিয়ে যাবেন।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগম জানান, প্রতিপক্ষ ফরিদ হোসেন ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে এলাকায় নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। জাহেদও আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারে ওরস আয়োজন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার। মাজারকেন্দ্রিক বিরোধের জেরেও হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।
নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী বোনসহ তিন বোনের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে হত্যা করা হয়েছে। তিন বোন চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করল, আমার প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা তাকিয়ে আমার বাবার হত্যাকাণ্ড দেখল, আমরা এসব স্মৃতি ভুলে যাব কীভাবে। আমরা তো পাগল হয়ে যাচ্ছি, আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তছলিম উদ্দিন জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ফরিদ বেপারীর বিরুদ্ধে আগেও হত্যা ও মাদক মামলাসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে। পূর্ব বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
প্রতিনিধি/এমআর




