ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের নির্দেশের পরও বন্ধ হয়নি দোহারে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে অরঙ্গাবাদ-বাহ্রা এলাকার তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুগের বেশি সময় ধরে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন উপজেলা যুবলীগের নেতা মাহবুব ব্যাপারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোহার উপজেলার মৈনটঘাটের আশপাশে পদ্মা নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে করে মৈনটে আনা হয়। সেখানে স্তূপ করে রাখা বালু পরে ট্রাকে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি।
উপজেলা প্রশাসনের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বালু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, পদ্মা নদী থেকে কেউ বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দোহারের যেসব স্থান থেকে বালু বিক্রি করা হয়, সেসব স্থানে বালুমহাল ঘোষণার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেন তিনি।
তবে এ নির্দেশনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মাহবুব ব্যাপারী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরে আবার প্রকাশ্যে বালু ব্যবসার নেতৃত্বে আসেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মৈনটে মাহবুব ব্যাপারীর সহযোগী হিসেবে বালু ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন খোকন খান, আব্দুস সাত্তার, মোতালেব ও আমজাদসহ আরও কয়েকজন। বালু ব্যবসার মাধ্যমে মাহবুব ব্যাপারী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কার্তিকপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদী থেকে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করছে। অথচ তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমরা চাই, সরকার বালুমহাল ঘোষণা করুক এবং ইজারার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হোক।’
এদিকে মৈনটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা আসেন। তবে নদী থেকে উত্তোলন করা বালু অপরিকল্পিতভাবে স্তূপ করে রাখায় পুরো এলাকায় ধুলাবালুর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, ‘মৈনট পদ্মা নদীবেষ্টিত একটি সুন্দর এলাকা। নদীর সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই এখানে আসেন। কিন্তু যেভাবে চারপাশে বালু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে, তাতে পরিবেশ খুবই খারাপ হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে, দোহার উপজেলার পদ্মা নদী থেকে কেউ বালু উত্তোলন করছে না। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৈনটে যারা বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বালু ভালোভাবে ঢেকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বালু পরিবহনের নির্দেশনা রয়েছে।’
প্রতিনিধি/এসএস




