বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পুলিশের চাকরি হারিয়ে ডাকাতি, গ্রেফতার ৩ 

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ এএম

শেয়ার করুন:

পুলিশের চাকরি হারিয়ে ডাকাতি, গ্রেফতার ৩ 

ফরিদপুরে আন্তঃডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন। অভিযানে রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া একটি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনসহ অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের নান্দাহা গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের চাকরিচ্যুত সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪), কান্দাপাড়া গ্রামের মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) এবং খুলনার লবণচরা এলাকার বাসিন্দা ও সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। জাহাঙ্গীর ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ডিবির অভিযান সূত্রে জানা যায়, নতুন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক ইজিবাইক ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। প্রথমে মুকসুদপুর এলাকা থেকে লিমন ও তার সহযোগী সাখাওয়াতকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় ও বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। এসব ইজিবাইক মুকসুদপুরের মন্টু মিয়ার কাছে বিক্রি করা হতো। ডিবির সিডিএমএস তথ্যভাণ্ডার যাচাই করে লিমনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অন্তত ১১টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।

লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া ইয়ামাহা মোটরসাইকেলটিউদ্ধার করা হয়। রূপগঞ্জে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় তিনি ও তার চক্রের সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানায়। জাহাঙ্গীর এসব চোরাই ও ডাকাতি হওয়া মোটরসাইকেল ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিক্রি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। 

তিনি বলেন, এই চক্রটির সঙ্গে একটি বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠিয়ে অধিকতর তদন্ত ও বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর