ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ৩৬টি পরিবারকে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে এসব চেক হস্তান্তর করা হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর আলী আশরাফ মোল্লা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন, বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহীন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা সুলতানা। এ সময় জেলা তথ্য কর্মকর্তা এসএম আল আমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী, সংসদ সদস্যের ছেলে রাশেদ ইকবাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিন, ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আল ফয়সাল জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩১ জনের পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহত ও আহত পাঁচজনকে মোট ১১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, মানুষের চলাচলের চাহিদা অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণ এবং পথচারী ও চালকদের সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলেই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।

চেক গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুর্ঘটনায় বাবা হারানো রায়হানুল ইসলাম ভূঞা ও তন্দ্রা মনি দেবীসহ অন্য উপকারভোগীরা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
রায়হানুল ইসলাম ভূঞা বলেন, “বাবার সঙ্গে মাগরিবের নামাজ শেষে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি গাড়ি চাপা দিলে আমার বাবা মারা যান। পরে আবেদন করার পর সহায়তার চেক পেয়েছি। এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।”
প্রতিনিধি/এসএস




