চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছিলেন মেহেদী হাসান। আটকের পর তার জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তাকে মারধর না করে খাবার দেন স্থানীয়রা। পরে জরুরি রক্তের প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে এক মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়ান তিনি। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে মানবিকতার এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
মেহেদী হাসানের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনানী এলাকায়। ছোটবেলায় গাছ থেকে পড়ে তার একটি হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাতটি বিচ্ছিন্ন করতে হয়। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
চুরির অভিযোগে আটকের পর স্থানীয়রা মেহেদীর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা কষ্টের কথা জানতে পারেন। এরপর তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে তাকে খাবার দেওয়া হয়।
পরে রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা মেহেদীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেন। এ সময় তারা জানতে পারেন, এক মুমূর্ষু রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন। রোগীর সংকটের কথা শুনে রক্ত দিতে রাজি হন মেহেদী। পরে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে ওই রোগীর চিকিৎসায় সহযোগিতা করেন তিনি।

বিষয়টি জানান রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আল আমিন রাজু।
রক্তদানের পর সংগঠনটির সদস্যরা মেহেদীর জীবনযাপন ও অসহায়ত্বের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন। এরপর তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি। এর অংশ হিসেবে তাকে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য ও বাজারসামগ্রী কিনে দেওয়া হয়।
মো. আল আমিন রাজু জানান, মেহেদী হাসানের সঙ্গে তারা দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। ভবিষ্যতে চুরির মতো কর্মকাণ্ডে আর জড়াবেন না বলে মেহেদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, ওই অঙ্গীকারের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়নি।
মেহেদীর ঘটনাটি একদিকে যেমন ভুল পথ থেকে ফিরে আসার অঙ্গীকারের কথা সামনে এনেছে, অন্যদিকে তুলে ধরেছে মানবিক আচরণ ও সহমর্মিতার গুরুত্ব। একজন অভিযোগে আটক ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম বুঝে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তার স্বেচ্ছায় রক্তদানের ঘটনা মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
প্রতিনিধি/এসএস




