বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শেরপুরে কুকুরের কামড়ে আহত শতাধিক, এলাকায় আতঙ্ক

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩২ এএম

শেয়ার করুন:

শেরপুরে কুকুরের কামড়ে আহত শতাধিক, এলাকায় আতঙ্ক
হাসপাতালে ভ্যাকসিনের জন্য দীর্ঘ লাইন। ছবি: ঢাকা মেইল

শেরপুর সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আকস্মিক এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর থেকে সদর উপজেলার ভাতশালা ও লছমনপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে কুকুরটির আক্রমণের এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল হওয়ার আগেই কুকুরটি বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে শুরু করে। এ সময় রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কুকুরটি। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেছে। একপর্যায়ে ভাতশালা ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের শতাধিক মানুষ কুকুরটির আক্রমণের শিকার হন।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহতরা ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরা অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসাকর্মীরা তাদের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পর জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় একজন নার্সকেই একসঙ্গে রোগীদের ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। এ নিয়ে টিকাদানের লাইনে থাকা লোকজনের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের একাধিকবার হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে।

চিকিৎসা নিতে আসা চার বছর বয়সী এক শিশুর স্বজন আব্দুল আলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে আমার শিশুকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। সকাল ৭টায় তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ভ্যাকসিন দিতে পারিনি। এর মধ্যে আনসার সদস্যরা আমাদের লাইন থেকে বের করে দিচ্ছেন।’

একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান রোকন নামে আরেক রোগীর স্বজন। তিনি বলেন, বাড়ির সামনে তার মেয়ে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে কুকুরটি তার পিঠে আঁচড় দেয়। সকাল ৮টায় মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভ্যাকসিন পাননি। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এতক্ষণ অপেক্ষা করার পরও ভ্যাকসিন পাইনি। এর মধ্যে নার্সও বাইরে চলে গেছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে আনসার সদস্যরা আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এভাবে একটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলতে পারে না।

অন্যদিকে, লছমনপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী কুকুরটির আক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কুকুরটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আটক কিংবা নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে গ্রামাঞ্চলে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলে যাতায়াতকারী শিশু এবং মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন কক্ষ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত ৫০ জনকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারিভাবে সরবরাহ করা ভ্যাকসিন রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে জনবল কম থাকায় রোগীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজে আরও কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর