বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফোনালাপে খুলল জট: ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল যুবকের কঙ্কাল

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ এএম

শেয়ার করুন:

ফোনালাপে খুলল জট: ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল যুবকের কঙ্কাল
নিহত মহব্বত আলী। ছবি: ঢাকা মেইল

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে মহব্বত আলী (৩৯) হত্যা মামলার দীর্ঘ তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। 

পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে পরিকল্পিতভাবে মহব্বত আলীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে উপজেলার রামনগর গ্রামের মহব্বত আলীর সঙ্গে অভিযুক্ত শাহ আলমের ভাতিজির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মহব্বত শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শাহ আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই জাহানারা বেগম কৌশলে মহব্বতকে তাদের বাড়িতে ডেকে আনেন। বাড়িতে লোকজন আসার অজুহাতে তাকে একটি ওয়ারড্রবের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে সেখানেই শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।

দীর্ঘদিন ঘটনাটি আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে তদন্তে নতুন মোড় আসে। 

এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে ঝগড়ার সময় শাহ আলম বলেন, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ডিবির হাতে পৌঁছালে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যেরভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বতের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪) নামে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট মহব্বতের বাবা মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। শুরুতে মাদকসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও দীর্ঘ তদন্তে প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক ক্ষোভের বিষয়টি সামনে আসে।

মাধবপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, একটি ফোনালাপের রেকর্ডের সূত্র ধরেই হত্যারহস্য উদঘাটনের পথ তৈরি হয়। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিবি হেফাজতে রয়েছে। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর পর এ হত্যার রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর