বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

প্রেমের টানে বিয়ে, পরিবারের চাপে বিচ্ছেদ— শেষ হলো দুই তরতাজা প্রাণ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রেমের টানে বিয়ে, পরিবারের চাপে বিচ্ছেদ— শেষ হলো দুই তরতাজা প্রাণ
মোহনগঞ্জ থানা। ছবি: ঢাকা মেইল

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। এরপর পারিবারিক চাপে বিচ্ছেদ। সেই বিচ্ছেদের ২০-২৫ দিনের মাথায় মাত্র ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে সাবেক স্বামী-স্ত্রীর। দুজনেরই ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

তাদের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের আটবাড়ি গ্রাম থেকে। অন্যজনের মৃত্যু হয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামে নিজ ঘরের বারান্দা থেকে দিনমজুর ২৩ বছর বয়সী মো. সাকিব মিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুরে মারা যান তার সাবেক স্ত্রী মুক্তা আক্তার (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকিব আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর মধ্যেই প্রায় তিন মাস আগে মামাতো বোন মুক্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে করেন সাকিব। 

বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে পারিবারিক চাপে ২০-২৫ দিন আগে মুক্তাকে তালাক দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর মুক্তা চলে যান তার বাবার কাছে, গাজীপুরের শ্রীপুরে।

সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান মুক্তা। তার বাবা বাবুল মিয়া মেয়ের মরদেহ পুলিশের কাছে না জানিয়ে মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে মুক্তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মঙ্গলবার সকালে নিজ ঘরের বারান্দায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায় সাকিবকে। পুলিশের ধারণা, সোমবার মধ্যরাতে তিনি মারা যান।

স্থানীয়দের ধারণা, প্রেম, বিয়ে ও পারিবারিক চাপে বিচ্ছেদের পর দুজনের জীবনে তৈরি হওয়া হতাশা ও মানসিক চাপ তাদের এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়ে থাকতে পারে।

গাগলাজুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী লুৎফর রহমান বলেন, সাকিব দিনমজুর ছিলেন। কখনো মাছ ধরতেন, কখনো কৃষিকাজ করতেন। তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি তাকে তালাকও দিয়েছেন। ওই মেয়েটি গতকাল মারা গেছেন। আজ সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিয়ে ও বিচ্ছেদের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল আওয়াল বলেন, দুইজনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে লক্ষণ দেখে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। বিচ্ছেদের কারণে হতাশা থেকে সাকিব এমনটি করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মুক্তা শ্রীপুরে তার বাবার কাছে ছিলেন। সোমবার সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান। তার বাবা ঝামেলার আশঙ্কায় সেখানকার পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ এলাকায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও বলেন, একই সময়ে দুইজনের মরদেহ থানায় আনা হয়। পরে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মুক্তার মৃত্যুর বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর