নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ভিওইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, পাঠদানে অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ‘ভিওইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর প্রধান ফটকের সামনে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে শতাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ও নিয়মমাফিক ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না। নির্ধারিত পাঠদানের সময়ে অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে না থেকে বাইরে আড্ডায় সময় কাটান। শিক্ষকদের এসব অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ওবায়দুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই। কিন্তু কলেজে গিয়ে যদি তারা দেখে শিক্ষক নেই, শিক্ষকেরা বাইরে আড্ডা দিচ্ছেন—তাহলে তারা কী শিখবে? এমন অবহেলার কারণেই এবার পরীক্ষার ফলাফল এত খারাপ হয়েছে।’
আরেক অভিভাবক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অধ্যক্ষের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও চরম অবহেলার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এই করুণ দশা। আমরা অবিলম্বে নিয়মিত ক্লাস চালুর দাবি জানাচ্ছি এবং এসব অনিয়মের দায় নিয়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভিওইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলতি বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে জেনারেল ও ভোকেশনাল দুটি শাখা মিলিয়ে মোট ৬৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের অনেকেই কর্মজীবী হওয়ায় ফলাফলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। অনিয়মের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। তবে আগামীতে ফলাফল ভালো হবে বলে আশা করছি।
এএইচ



