সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ভোগান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর লাঘাটা সেতুর কাজ শুরু

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ভোগান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর লাঘাটা সেতুর কাজ শুরু

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে লাঘাটা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাসে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। আর ডিসেম্বরের শেষ দিকে পুরো কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

এই বিষয়ে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকা মেইলে '৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তি' শিরোনামে  সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারচাক প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই ফেরিঘাট সড়কের আওতাধীন লাঘাটা নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৬ জুলাই। প্রকল্পটির নির্ধারিত ব্যয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ভোলার প্রিন্স মামুন (জেবি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ফলে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কসহ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এটি ব্যবহার করতে পারছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন তাদের প্রত্যাশা, প্রকৌশল বিভাগের দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী কাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

image

সম্প্রতি সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে সেতুর প্রবেশমুখে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় লোকজনকে নদী পারাপারে নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

মিটিপুর গ্রামের কৃষক মনির উদ্দিন বলেন, সেতুটি চালু না থাকায় কৃষি পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ হতো। সেতুটি চালু হলে নিজেরাই কৃষি পণ্য নিয়ে আসতে পারবো। এতে পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে।

নওয়াগাঁও এলাকার সিএনজিচালক রফিক মিয়া বলেন, সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় গাড়ি নিয়ে নদীর অন্য পাড়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। এখন কাজ শুরু হওয়ায় সেতুটি চালু হলে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। এতে দৈনিক আয়ও আগের তুলনায় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাহবুব আহমদ জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত। কাজ শেষ হলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।

এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেবি), ভোলা ইতিমধ্যে সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। আগামী নভেম্বর মাসে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে সেতুর কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর