সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

টানা দুই বছর ফেল, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজের কেউ পাস করেনি

সাইফুল আরিফ জুয়েল, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

শেয়ার করুন:

টানা দুই বছর ফেল, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজের কেউ পাস করেনি
ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি।

নেত্রকোনা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

চলতি বছর কলেজটি থেকে চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এর আগের বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি।

শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, নেত্রকোনা জেলায় এবার ছয়টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। ছয়টি কলেজের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।

গত শনিবার প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন মানবিক বিভাগের এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য।

অন্যদিকে, গত বছর এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরাও পাস করতে পারেননি। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হননি।

কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে জেলা সদরের একটি গ্রামে ‘ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

e9fa5d2e-ec96-41d0-96e7-f5e5247c3091

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপু। প্রতিষ্ঠানটিতে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধাও এখানে নেই।’

এ বছর চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাস করেনি বলেও জানান তিনি।

জেলায় শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

আরও পড়ুন

পিরোজপুরে দুই কলেজে ২৪ শিক্ষকের ৭ শিক্ষার্থী, এইচএসসিতে সবাই ফেল

এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর