সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শূন্য পাস কলেজের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি, এক দিনে তিনবার পরিবর্তন

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

শূন্য পাস কলেজের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি, এক দিনে তিনবার পরিবর্তন

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নেত্রকোনায় শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে এ সংখ্যা। এতে গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর পরপরই ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীন নেত্রকোনা জেলার ফলাফল নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে লিখিত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

দুপুরে পাঠানো প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলার তিনটি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা তিনটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি বলে জানানো হয়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

তবে শনিবার রাতে শিক্ষাবোর্ডের ফলাফলের মূল শিট পাওয়ার পর রোববার নতুন করে জানানো হয়, জেলায় শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা পাঁচটি নয়, ছয়টি।

অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে তিন দফায় পরিবর্তন হয়েছে শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা। এর মধ্যে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানেই এ সংখ্যা তিনটি থেকে বেড়ে পাঁচটিতে দাঁড়ায়।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ বলেন, এমন ঘটনায় আমরা নিজেরাও বিব্রত। ফল প্রকাশের পর সবাই দ্রুত ফলাফল জানতে চান। দ্রুত তথ্য সরবরাহ করতে গিয়ে এমনটি হয়েছে। শিক্ষাবোর্ড থেকে শনিবার দিনের বেলায় আমাদের কাছে ফলাফল পাঠানো হয়নি। ফোনে বা অন্যভাবে তথ্য জেনে সদর শিক্ষা অফিস আমাদের দিয়েছে। সেটি গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে তিনটি কলেজে কেউ পাস করেনি বলে জানানো হয়। কিছু সময় পর আরও দুটি কলেজের তথ্য পাওয়ায় নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। শনিবার রাতে শিক্ষাবোর্ডের ফলাফলের শিট পাওয়ার পর জানা যায়, শূন্য পাস করা কলেজের সংখ্যা ছয়টি। তাই রোববার সংশোধিত তথ্য জানানো হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ বলেন, বোর্ডভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষাবোর্ড থেকে সরাসরি জেলা শিক্ষা অফিস অথবা জেলা প্রশাসনের কাছে ফলাফলের কপি পাঠানো হলে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হতো না। বিষয়টি নিয়ে তারা সত্যিই বিব্রত।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এবার জেলায় শূন্য পাস করা ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো— জেলা সদরের ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজ, কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর