চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শেরপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ব্যর্থতার এই তালিকায় রয়েছে ঝিনাইগাতী উপজেলার ‘আলহাজ্ব এস.এম.এ. ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজ’ এবং শেরপুর সদর উপজেলার ‘মন্মথ দে মহাবিদ্যালয়’। এছাড়া, জেলার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত ৩১ অক্টোবর ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার শেরপুর জেলায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫.৬৫ শতাংশে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় যা নিম্নমুখী। ২০২৫ সালে জেলায় পাসের হার ছিল ৪৮.৬৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ছিল ৫৮.০১ শতাংশ।
সে হিসাবে, বিগত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৩.০৪ শতাংশ এবং দুই বছর আগের তুলনায় তা কমেছে ১২.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ, জেলাটিতে পর পর দুই বছর পাসের হারে অবনতি ঘটেছে ।
ঝিনাইগাতীর শালচূড়া গ্রামে অবস্থিত আলহাজ্ব এস.এম.এ. ওয়ারেজ নাইম মডেল কলেজটি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এস.এম.এ. ওয়ারেজ নাইম। প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, এবার এই কলেজটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু সে-ও অকৃতকার্য হয়েছে।
অন্য প্রতিষ্ঠানটি হলো জামালপুর জেলা সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের মন্মথ দে মহাবিদ্যালয়, যা ২০১০ সালে গড়ে ওঠে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। এই ফলাফলের পেছনে প্রত্যন্ত ভৌগোলিক অবস্থান এবং মানসম্মত শিক্ষার্থীর অভাবকে দায়ী করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাশেম। তাঁর মতে, অন্য কোথাও সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরাই বাধ্য হয়ে এখানে ভর্তি হয়, পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি ও পাঠে মনোযোগের ঘাটতিও এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, কাগজে-কলমে অনুমতির ওপর ভিত্তি করে সীমিত সংখ্যক পরীক্ষার্থী দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল টিকে রয়েছে। বাস্তবে সেখানে সঠিক পাঠদান প্রক্রিয়া সচল থাকে না বললেই চলে।
এদিকে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) ড. আবু খায়ের মো. কামাল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, বোর্ডের অধীনে থাকা মোট ১৯টি শতভাগ ফেল করা কলেজের মধ্যে শেরপুর জেলার এই প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তর্ভুক্ত।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮,৩৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন ও ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে ১২টি কেন্দ্রে মূল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮,০০৩ জন (৩,৭১৯ জন ছাত্র এবং ৪,২৯৩ জন ছাত্রী)। তাদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩,৬৫৩ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ছাত্র ১,৪২৪ জন এবং ছাত্রী ২,২২৯ জন।
প্রতিনিধি/এলএ




