একটি বাড়ি। সদস্যসংখ্যা ১০ জন। সবাই খাওয়া ছেড়ে উঠানে লেপ-তোশক নিয়ে আগুনের সঙ্গে ‘লড়াই’ করার জন্য অপেক্ষা করছেন। এই যেন তাদের বাড়িতে আগুন ধরে গেল! দশ দিন ধরে বাড়িটিতে প্রতিদিন আট-দশবার হুটহাট করেই আগুন ধরছে। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে ‘বিস্ময়কর বাড়িটি’ দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এমন আতঙ্কে দিন পার করছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের খাজুলিয়া গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির সদস্যরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৮ থেকে ১০ বার আগুন লেগেছে এই বাড়িটিতে।
সরেজমিনে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, ওই পঞ্চায়েত বাড়িতে বিরাজ করছে কৌতূহল, আতঙ্ক, ভয় ও সংশয়। বাড়ির প্রবেশমুখে ভিড় করছেন নানা মানুষ। অটোভ্যানে চড়ে আগুন দেখতে আসছেন অনেকে। এর মধ্যে দুই-একজন আগুন দেখেও ফেলেছেন। তাদের মধ্যে একজন একই গ্রামের চান মিয়া।
তিনি জানান, আগুনের খবর শুনে গিয়ে দেখি কবিরাজ মৌলভী সাহেব উপস্থিত। কবিরাজ কবিরাজি করে কোনো কূল-কিনারা পেলেন না। তিনি আরও বলেন, মৌলভী সাব নামাজ পড়ার পরামর্শ দিলেন। আমরা সবাই তাজ্জব, কীভাবে আগুন জ্বলে?
ঘরের লেপ-তোশক থেকে শুরু করে কাপড়চোপড় বাড়ির উঠানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। বালতি ভরে রাখা হয়েছে পানি। উৎসুক জনতার ভিড় ঠেকাতে বাড়ির চতুর্দিকে দেওয়া হয়েছে বেড়া।
বাড়ির মেজো ছেলে আব্দুল হাকিম জানালেন, টানা দশ দিন ধরেই দুর্বিষহ যন্ত্রণায় ভুগছেন তারা। দিনে আট-দশবার হুটহাট আগুন লেগে যাচ্ছে, আর সমস্ত কাজ ফেলে সে আগুন নিভাতেই বালতি-মগ নিয়ে দৌড়াতে হচ্ছে। দ্রুত এর থেকে পরিত্রাণ চান তারা।
এদিকে আগুনের ঘটনায় মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানালেন, আগুনের ঘটনায় তদন্ত করে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এখন আগুনের পরিমাণ কমেছে বলে জানান ওসি।
অন্যদিকে, মুক্তাগাছা ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোশারফ হোসেন বলেন, বাড়িতে আগুন লাগার বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মত নয়। বিভাগীয় কমিশনারসহ মুক্তাগাছা ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন লাগার মূল কারণ অনুসন্ধান করতে পারেনি।
প্রতিনিধি/এসআই




