ব্যাটারিচালিত গাড়ি চালাতে নিয়মিত চার্জ দিতে হয়। বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এবং চার্জ দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তির চিন্তা থেকেই নতুন প্রযুক্তির একটি ব্যাটারিচালিত গাড়ি উদ্ভাবন করেছেন ঝালকাঠির গোলাম সাঈদ খান।
তার দাবি, বিশেষ পদ্ধতিতে চারটি ব্যাটারির সমন্বয়ে তৈরি এ গাড়ি চালাতে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
গাড়িটিতে চারটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ব্যাটারির শক্তিতে গাড়ি চলবে। একই সময়ে অন্য দুটি ব্যাটারি চার্জ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকবে। প্রথম দুটি ব্যাটারির চার্জ শেষ হলে পরের দুটি ব্যাটারি দিয়ে গাড়ি চলবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ব্যাটারি ব্যবহার ও চার্জ হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের চিন্তাভাবনা থেকেই এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেন গোলাম সাঈদ খান। তিনি বলেন, অনেক ব্যাটারিচালিত গাড়িতে লাইট ও ফ্যানের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। এসব চিন্তা থেকেই গাড়ি চলার পাশাপাশি ব্যাটারি চার্জ করার পদ্ধতি বের করার চেষ্টা।
সাঈদ খান বলেন, ‘বহু বছর ধরে চিন্তাভাবনা করেছি, কীভাবে চার্জ ছাড়াই ব্যাটারিচালিত গাড়ি চালানো যায়। অনেক গাড়ির ব্যাটারি দিয়ে লাইট, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চলে। তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগে, গাড়িতে চলার পাশাপাশি ব্যাটারি চার্জ হবে না কেন? সেই চিন্তা থেকেই দীর্ঘদিন চেষ্টা করে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি।’
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
বর্তমানে নিজের পরিচালিত একটি ইংলিশ ভার্সন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য গাড়িটি কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান আবু সাঈদ। তার দাবি, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নেওয়া গেলে দেশের ব্যাটারিচালিত যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সাঈদ খান বলেন, ‘সরকার যদি বাণিজ্যিকভাবে প্রযুক্তিটি চালু করতে সহযোগিতা করে, তাহলে দেশে এটি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমার উদ্ভাবনটি দেশের মানুষের কাজে লাগুক। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও উন্নত করে এটি বাজারজাত করা যাবে। এ ধরনের প্রযুক্তির গাড়ি পৃথিবীতে আগে কেউ উদ্ভাবন করেনি।’
শুধু ব্যাটারিচালিত গাড়ি নয়, এর আগেও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন সাঈদ খান। জানান, ১৯৮৬ সালে তিনি দেশের প্রথম আইপিএস (ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই) উদ্ভাবন করেন। এ উদ্ভাবনের স্বপক্ষে তার কাছে সনদ রয়েছে বলেও জানান।
সাঈদ খান বলেন, ‘আমি দেশে প্রথম আইপিএস তৈরি করি। এ কাজের জন্য দীর্ঘদিন সরকারি সহযোগিতাও পেয়েছি। কিন্তু হঠাৎ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর সেই সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটি ভুল করেছিলাম। আইপিএস তৈরি করলেও সেটির কপিরাইট করিনি। ফলে পরবর্তী সময়ে বাজারে আইপিএস এলেও আমার নামে আসেনি। এ উদ্ভাবন থেকে আমি কোনো আর্থিক লাভও করতে পারিনি।’
সাঈদ খান আরও জানান, তার উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন মুরাদ ও শাহ আলম মল্লিক বলেন, আবু সাঈদ খানের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড এলাকায় আগ্রহ তৈরি করেছে। তার তৈরি গাড়িটি দেখে অনেকেই কৌতূহল প্রকাশ করছেন।
তারা মনে করেন, উদ্ভাবনটির কার্যকারিতা যথাযথভাবে পরীক্ষা করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হলে এটি নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিনিধি/এএইচ



