শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে মাদরাসার বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে মাদরাসার বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক
মাদরাসার বাবুর্চি ফজের আলী সরদারকে গাছের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে এই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি / ছবি: ঢাকা মেইল

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার এক মাদরাসায় খাবার না পেয়ে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে ফজের আলী সরদার (৭০) নামে এক বয়োবৃদ্ধ বাবুর্চিকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবি (৬৫) নামের এক নারী সহকারীও গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদরাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদরাসায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।

​নিহত বাবুর্চি ফজের আলী সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। আহত নারী সহকারী সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া সিদ্দিক কাজীপাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদরাসার হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করছিলেন বাবুর্চি ফজের আলী ও তার সহকারী সোনাবান বিবি। এ সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের কাছে খাবার চান। কিন্তু খাবার দিতে অস্বীকৃতি বা দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত পাশের একটি ভারী কাঠের গুঁড়ি তুলে নেন এবং অতর্কিতভাবে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাবুর্চির মৃত্যু হয়।

​পরে ফজের আলীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারী ওই ব্যক্তি সোনাবান বিবিকেও বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও মসজিদের মুসল্লিরা দ্রুত ছুটে এসে ঘাতককে হাতেনাতে আটক করেন।

রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক হাসান বাবুর্চি ফজের আলীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

​খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকেও পুলিশি নিরাপত্তায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

​তিনি আরও জানান, আটক হওয়া ওই ব্যক্তির আনুমানিক বয়স ৪৩ বছর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। খাবার না পাওয়ার আক্রোশে তিনি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর