শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পাহাড়ে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু, বৌদ্ধ ভক্তদের মিলনমেলা

জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পাহাড়ে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু, বৌদ্ধ ভক্তদের মিলনমেলা
ফানুস উত্তোলন অনুষ্ঠানে ভক্তদের ভিড়। ছবি: ঢাকা মেইল

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে খাগড়াছড়িতে পালিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ি শহরের য়ংড বৌদ্ধ বিহারে পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশে বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্ঠপরিষ্কার দান, সংঘ দান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান ও পিণ্ড দানসহ নানা ধর্মীয় দান অনুষ্ঠানে অংশ নেন সদর উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কয়েক হাজার ভক্ত। দুপুর পর্বে শুরু হয় ধর্মীয় দের্শনা। 

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিকে য়ংড বৌদ্ধ বিহারে ৮৪ হাজার বাতি প্রজ্জ্বালন ও ফানুস উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এছাড়াও তিনি দুপুরে সদর উপজেলার ধর্মপুর আর্য্যবন বিহার ও শহরের কল্যাণপুর কেন্দ্রীয় মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। 

দিনব্যাপী আয়োজনে মূল আকর্ষণ ছিল- কঠিন চীবর দান, যেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড় বুনে তৈরি করা হয় ভিক্ষুদের পরিধেয় চীবর। এ শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চীবর ভিক্ষু সংঘের হাতে দান করাই এই উৎসবের মূল তাৎপর্য।

শুধু য়ংড বৌদ্ধ বিহার, ধর্মপুর আর্য বন বিহার, কল্যাণপুর কেন্দ্রীয় মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারেও একযোগে চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসব চলবে মাসব্যাপী। 

উৎসবমুখর পরিবেশে নারী-পুরুষ, ভিক্ষু ও উপাসক-উপাসিকারা মিলিত হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী দানোত্তম অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা জেলাজুড়ে এক অনিন্দ্য শান্তি ও ধর্মীয় সৌহার্দ্যের আবহ তৈরি করে।

সন্ধ্যায় ফানুস উত্তোলন অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এম. এন আবছার, য়ংড় বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি থৈইহ্লপ্রু চৌধুরী, য়ংড় বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত ক্ষেমাসারা মহাস্থবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর