বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে মিলল মুক্তার দেহবাশেষ, পিরোজপুরে দাফন

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে মিলল মুক্তার দেহবাশেষ, পিরোজপুরে দাফন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তার (২৮) প্রথম ও দ্বিতীয় জানাজা হওয়ার পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন এবং ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নে হাজী বাবু খাঁ বাড়ি সংলগ্ন দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মুক্তার দাদার কবরের পাশে দাফন হয়। 

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার বাইতুর রব জামে মসজিদের পাশে নিহতের প্রথম জানাজা হয়। 

প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।  

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বাঁচলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি মুক্তা। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা মুক্তার খোঁজে অপেক্ষা করছিলেন। একে একে অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার সন্ধান মিলছিল না। অবশেষে ১০ দিন পর উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের গলায় থাকা লকেট দেখে তাকে শনাক্ত করেন তিনি। 

মুক্তার ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী অভিযোগ করে বলেন, ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আমার বোনের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমাদের সেখানে যেতে বলা হয়। গিয়ে বোনের মরদেহ পাইনি। এরপর আমার দুলাভাই একপ্রকার জোর করেই সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে বোনের গলায় থাকা লকেট দেখে ১০ দিন পর তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া যেত। 

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নাসরিন জাহান মুক্ত দুই বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরতে এসে ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ওঠেছিল। পরে গত (১৭ অক্টোবর) শনিবার সকালে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটলে মুক্ত নিখোঁজ হন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে পুলিশ তা উদ্ধার করে। গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানায়। তবে তাদের মধ্যে ছিলেন না নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তা। তার স্বজনদের ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নমুনার মিল না পাওয়ায় তার সন্ধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। 

এরপর মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে উদ্ধার হয় মুক্তার দেহাবশেষ। 

এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর