বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মামলা তুলে না নেওয়ায় নারীর বসতঘরে আগুন, ভয়ে এলাকাছাড়া পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

মামলা তুলে না নেওয়ায় নারীর বসতঘরে আগুন, ভয়ে এলাকাছাড়া পরিবার
আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর। ছবি: ঢাকা মেইল

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চলমান মামলা তুলে না নেওয়ায় এক নারীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। 

ঘটনার পর থেকে ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী হেপি আক্তার (৩৯)।

অভিযোগকারী হেপি আক্তার মোহনগঞ্জ উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে। বিয়ের পর থেকে তিনি বাড়িতেই থাকতেন। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের প্রতিবেশী কামাল হোসেন (৪২), তার ভাই সেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও মোফাজ্জল (৩৮), তাদের ভাতিজা আলীম (২৬) ও বারহাট্টা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কামাল হোসেনদের সঙ্গে হেপি আক্তার ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর হেপি আক্তারকে মারধর করে জখম করে কামালসহ অন্যরা। এ ঘটনায় পরদিন কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে হেপির স্বামী মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

হেপি আক্তারের অভিযোগ, ওই মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কামাল ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বসতঘরের দরজা-জানালায় কোপানোর পাশাপাশি বাড়িতে থাকা পুরনো একটি বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভয়ে তারা বাড়িঘর ফেলে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শুকদেবপুর গ্রামে গিয়ে হেপি আক্তার ও তার বাবা লাল মিয়া কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। 

প্রতিবেশী আব্দুল বারেক বলেন, আগুনের ঘটনার পর থেকেই পরিবারের লোকজন বাড়িতে নেই। কোথায় গেছে জানি না। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল হোসেন বলেন, পুরো অভিযোগটাই মিথ্যা। আমরা আগুন দেওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত নই। প্রতিহিংসাবশত আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তারা পলাতকও না,  এক আত্মীয়র বাড়িতে আছে। হেপিদের সাথে জমি নিয়ে সামান্য বিরোধ আছে। এর আগেও আমাদের বিরুদ্ধে একটা মারধরের মামলা করেছে। ওই মামলাও মিথ্যা, তাকে মারধর করা হয়নি।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন,  অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর