ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং দমন, যানজট নিরসন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম। তিনি বলেছেন, মাদকসেবী বা মাদক বহনকারীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িত বড় চক্রের হোতাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সমস্যা, মাদকের বিস্তার রোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা সহজ করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নিয়ে আমি আগামী সপ্তাহে বসব। বিভিন্ন জায়গায় কিশোর গ্যাং মাথাচাড়া দিয়েছে। সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করে প্রকৃত অর্থে কিশোর গ্যাং নির্মূলের চেষ্টা করব।
শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী শহরের প্রধান সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। যানজটকে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের অটোরিকশা চলাচলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবিলা করা কঠিন। তবে শিগগিরই মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে, যাতে নিবন্ধন ছাড়া কেউ মোটরসাইকেল চালাতে না পারেন।
মাদক পরিস্থিতি নিয়ে এসপি বলেন, ‘মাদকের সমস্যা আসলে সবার। বর্তমানে সারা দেশেই মাদকের বিস্তার রয়েছে। আমাদের দেশে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা এক লাখের কম। আর সারা দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আসলে কতজন মাদকসেবীকে ধরব? মাদকসেবী বা মাদক বহনকারীসহ হাজারখানেক মানুষকে গ্রেফতারের চেয়ে মাদক সম্রাট ও মাফিয়া নেতাদের ধরতে পারলে বেশি কাজ হবে। তাদের ধরতে আমরা কাজ করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কমকর্তারাসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস




