বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন:

চোখের পানিতে বিদায় নিলেন ফতুল্লার একই পরিবারের তিনজন

জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

চোখের পানিতে বিদায় নিলেন ফতুল্লার একই পরিবারের তিনজন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। 

বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিস সংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাদের জানাজা হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন- ফারিহা কবির (৩৩), তার ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। তাদের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

নিহত নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা কবির স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তার ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ত। 

ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। নাফিসের বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। 

নিহত ফারিহা কবিরের চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে ফারিহা, নাফিসসহ পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। সেখানেই তাদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ফতুল্লায় তাদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে। 

সাদিয়া জানান, ২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। তার স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় তারা চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে ফারিহা ও তার এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাস তাদের রিসোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। রিসোর্টের একটি কক্ষে তিনজন এবং অন্য একটি কক্ষে ছয়জন ছিলেন। 

সাদিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার চাচা ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানান। পরে তারা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পান। 

তিনি আরও জানান, ফারিহার স্বামী জরুরি কাজে ঘটনার আগের রাতে সেখান থেকে চলে আসায় প্রাণে বেঁচে যান। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাদার কবরের পাশেই তাদের সমাহিত করা হয়েছে। 

স্বজনরা জানান, একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে তারা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তাদের ভাষায়, একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের একটি প্রজন্ম যেন শেষ হয়ে গেল। বিশেষ করে মেধাবী তরুণ নাফিসকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল। এখন সেই স্বপ্ন শুধুই স্মৃতি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। 

তাদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো। 

পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, তাদের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের এই তিন সদস্যকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর