যশোরের শার্শায় এক জমি বারবার বিক্রি করা নিয়ে একই পরিবারের ৪ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুরসহ ৫ ভরি ওজনের সোনার গহনা, একটি বিদেশি মোবাইল ও নগদ ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
বুধবার বেলা ১১টার সময় শার্শার সোনানদীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- সোনা নদীয়া গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী জোহরা খাতুন, ছেলে উজ্জ্বল হোসেন ও উজ্জ্বলের স্ত্রী জুঁই খাতুন।
আহত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি গত ২০১৮ সালে সোনাদনীয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের নিকট থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে বসতভিটার ২.৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই থেকে জাহাঙ্গীর আলম তার ক্রয়কৃত জমি ভোগ দখল করে আসছে। বিক্রিত ওই জমির সামনে থেকে তহিদুল গোপনে ০৭৫ শতাংশ জমি গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে আবারো বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে জাহাঙ্গীর আলম জমির মালিক তহিদুলের কাছে এক জমি দুইবার বিক্রির প্রতিবাদ করলে সে জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার হুমকি দেয়।
এরপর বুধবার বেলা ১১টার সময় পরিকল্পিতভাবে গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার ছোট ভাই সোনানদয়িা গ্রামের আসাদুজ্জামান ও তহিদুলের নির্দেশে সোনানদীয়া গ্রামের রনি আহম্মদ, সজিব হোসেন, টুটুল হোসেন, শাকিল হোসেন, নূরনবী, তপু হোসেন, মিন্নু হোসেন ও তহিদুলের ছেলে সামাউলসহ আরও ১০/১২ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র, রামদা, হাতুড়ি, মোটরসাইকেলের ডাম্পার নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বৌকে হাতুড়িপেটা ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর তার পরিবারের স্বজনরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
আহত উজ্জ্বল হোসেন জানান, তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিল। তার পিতা জাহাঙ্গীর আলম বিদেশ থেকে তার মা ও তার স্ত্রীর জন্য নিয়ে আসা ৫ ভরি সোনার গহনা, বাড়িতে থাকা নগদ ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা ও একটি বিদেশি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।
শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক জানান, আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী মামলা করলে তা তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




