বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, নিয়ম ভাঙলেই মামলা

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ  
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, নিয়ম ভাঙলেই মামলা
ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়েতে শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় স্থাপনকৃত এআই ক্যামেরা- ছবি ঢাকা মেইল

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই প্রযুক্তিচালিত আধুনিক ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই লাইফলাইনে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দায়ের হয়ে যাবে। 

৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের (ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে) সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশ পড়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলার সীমানায়।

S  

পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসতর্কতায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। 

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার বছরে এই সড়কে অন্তত ৫৮৯টি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫২ জন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৫০ জন যাত্রী ও পথচারী। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে জানান, চালকদের ঘুম ঘুম ভাব, সচেতনতার অভাব, যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা এবং নিয়মিত ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করাই এখানে সিংহভাগ দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখা গেছে।

এদিকে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মুন্সিগঞ্জের উন্নয়নকাজ ও মুক্তারপুর পঞ্চবটি দ্বিতল সড়কের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, পুরো ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতেও এআই ক্যামেরা বসিয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে। সড়ক আইন অমান্যকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দেন। 

S

অন্যদিকে এআই ক্যামেরায় স্থাপনের উদ্যোগটির গুরুত্ব ও মাঠপর্যায়ের সুফল তুলে ধরে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার জানান, এক্সপ্রেসওয়ের পুরো অংশ যখন এআই ক্যামেরার আওতায় আসবে, তখন অতিরিক্ত গতি এবং বিপজ্জনক ওভারটেকিং তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় মামলা হয়ে যাবে। এতে চালকরা গতিসীমা মেনে চলতে বাধ্য হবেন এবং সড়কের শৃঙ্খলা দ্রুত ফিরে আসবে। 

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.মমিনুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে গতিসীমার সাইন মার্কিং এবং একাধিক পয়েন্টে সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রয়েছে। 

তবে অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন নেওয়া, চালকের অসচেতনতা, নিয়ম না মানা এবং শীতকালে ঘন কুয়াশার মতো কারণগুলোতেও দুর্ঘটনা ঘটছে, যা এআইভিত্তিক সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর