কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় ‘বাইতুর রব জামে মসজিদের’ পাশে তার জানাজা হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে জানাজায় অংশ নেন শত শত শোকাহত মানুষ। স্বজনদের কান্না আর উপস্থিত মানুষের শোকের মধ্যদিয়ে প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানান তারা।
নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী। বুধবার সকালে কক্সবাজার থেকে তার মরদেহ আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় পৌঁছালে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। জানাজায় স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
প্রথম জানাজা শেষে নাসরিনের মরদেহ তার পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নাসরিনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পৈতৃক জমিতে তার দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হবে।
নাসরিনের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের পাশাপাশি স্বজনদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন। তাদের অভিযোগ, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন তিনতলা ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজে যথাযথ তল্লাশি চালানো হয়নি। এ কারণে নাসরিনের মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
নাসরিনের মামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল লিজন জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়। তখন নাসরিনের বোন ও ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় আট দিন পর পরিবারকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে তাদের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।
আব্দুল্লাহ আল লিজনের ভাষ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার প্রশাসনের কাছে নাসরিনের খোঁজ জানতে চাওয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহ হলে নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সালসহ স্বজনরা রাতে পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেন। সেখানে পোড়া অংশে মাছি উড়তে দেখে তারা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। এরপর দিন প্রশাসনের উদ্যোগে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল পুনরায় তল্লাশি চালায়। ওই স্থান থেকেই নাসরিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজদের বিষয়ে বারবার জানানোর পরও যথাযথভাবে তল্লাশি না চালানোয় মরদেহ উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছে। শুরু থেকেই সঠিকভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো মরদেহটি আরও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মামলায় অন্তর্ভুক্ত ধারাগুলো নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নাসরিন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নের মোস্তফা কামালের মেয়ে। স্বজনদের কাছে তার শেষ ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর যেন তাকে দাদার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই বুধবার তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পৈতৃক বাড়িতে।
প্রতিনিধি/এলএ




