বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সড়ক সংস্কারে এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঠিকাদারের!

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

সড়ক সংস্কারে এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঠিকাদারের!
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্থানীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। ছবি: ঢাকা মেইল

এমপির বিরুদ্ধে সড়কের কাজে চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রকৌশলী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সড়কের কাজের অনিয়ম দেখালেন এমপি

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর সড়কের চলমান সংস্কার কাজে অনিয়ম পেয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। 

বুধবার বেলা ১১টায় সওজ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে নিয়ে কাজটি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। এ সময় সড়কের একপাশে গাইড দেওয়ার হেলে পড়েছে বলে দেখতে পান তারা। 

এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি সেতু, সড়কের অ্যাপ্রোচ মিলে এই কাজ। কাজটি নকশা অনুযায়ী হচ্ছে। এমপি মহোদয় যে অভিযোগ করেছেন- সেটা ঠিক আছে। আর যাতে কোনো ত্রুটি না হয়, সেটি আমরা দেখব। 

তখন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি গতকাল (মঙ্গলবার) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি গ্রামে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী গিয়েছিলেন।এলাকাবাসী শুরু থেকেই কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ করছিলেন। খেলা থেকে ফেরার পথে লোকজন সেখানে আমাকে থামান। লোকজন কাজে অসঙ্গতি দেখানোর পর ঠিকাদারের লোককে বলে আসি- ‘কাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না’। আমি বুধবার সংশ্লিষ্ট প্রকোশলীকে নিয়ে আসব। 

আমি রাতে শহরে ফিরেই শুনি ওই ঠিকাদার নাকি আমার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। ওই ঠিকাদার আজকে আসেননি। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই ঠিকাদার দেশেই নাই। বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ের একটা সিন্ডিকেট এখানে কাজ করছে। আমি চাই, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে- সেটির তদন্ত হোক। আমি এলাকাবাসীর স্বার্থে কোনো কাজেই অনিয়ম সহ্য করব না।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম ও তার লোকদের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করে়ছেন ওই কাজের ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এতে হুমকি, পুলিশি হয়রানি, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা প্রদানের কথা বলেছেন।

নূরুল ইসলাম জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য।

অভিযোগকারী হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কুনাহাট গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম। তার ইসলাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আছে। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে চারটি সেতুর অ্যপ্রোচ, সড়ক উঁচুকরণ, পাশে ব্লক বসানো ও গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং একটি সেতু নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। দুটি প্যাকেজে এখানে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা কাজ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এই কাজ করাচ্ছে।

নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি একজন সাধারণ ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। কিন্তু সংসদ সদস্য ও কথিত সহযোগী সদস্যদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তাকে নানাভাবে চাপ ও হুমিক দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর