মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শতকে দুই লাখ টাকার জমির ক্ষতিপূরণ ১২ হাজার, ডোমারে প্রতিবাদ

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

শতকে দুই লাখ টাকার জমির ক্ষতিপূরণ ১২ হাজার, ডোমারে প্রতিবাদ

‘আগে মামলা শেষ করো, তারপর জমিতে দখলে আসো’—এমন স্লোগানে নীলফামারীর ডোমারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জমির মালিকেরা। তাদের অভিযোগ, জমির বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলা নিষ্পত্তির আগে অধিগ্রহণ করা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত মানববন্ধনে জমির মালিকেরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে জমি রেজিস্ট্রি না করার দাবি জানান।

জানা গেছে, ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপ্যানশন প্রকল্পের আওতায় ডোমার উপজেলায় ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত জমিগুলো ডোমার পৌরসভার ডোমার-দেবীগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।

454aa6f9-d894-44be-aff0-c7c92044d60c

জমির মালিকদের দাবি, এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতক দুই লাখ টাকা বা তারও বেশি। অথচ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি শতক মাত্র ১২ হাজার টাকা।

জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

আব্দুল মজিদ বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের জমির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে শতকপ্রতি ১২ হাজার টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিসি স্যার যে দাম বলেছিলেন, সেটিও আমাদের জমির দামের চেয়ে কম। তারপরও আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে জান দেব, তবু জমি দেব না।”

3f0f8c94-c706-4fa6-9df4-264727342c2c

জমির মালিক রুপালী বেগম বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসারে যতটুকু জমি আছে, তার বেশির ভাগই এখানে। বর্তমানে এসব জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর অর্ধেক দাম পেলেও আমাদের সমস্যা হতো না। কিন্তু যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। এখানে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ করে চলব—এটাই আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু জমির ন্যায্য দাম না পেলে অন্য জায়গায় জমি কিনব কীভাবে? আর চাষাবাদ করেই বা কীভাবে সংসার চালাব?”

জমির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

e466ff96-5cf8-4eb6-9ff1-ef46bfb8ef5f

রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা শুনতে পাচ্ছি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা চাই, আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য দেওয়া হোক। মামলা নিষ্পত্তি করে তারপর জমি রেজিস্ট্রি করা হোক।”

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “যারা ভুক্তভোগী, তারা আমার কাছে আসেননি।”

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর