চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, ভুট্টার আগাম চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না তারা। দিনের পর দিন চেষ্টা করেও অনেকে সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, “যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি। তবু যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেছি।”

চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, “ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহ চাই। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।”
কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, “ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে কীভাবে চাষাবাদ করব? সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায়, ফলনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের সারা বছর সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। তাই সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, সার বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রয়োজনে আগামী মাসের বরাদ্দ থেকে সার দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিতরণ শেষ হবে।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন মিত্র বলেন, কৃষকদের ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং যেসব কৃষকের সার কার্ড আছে, তারা সবাই সার পাবেন। কৃষকেরা তাদের কথা শুনেছেন এবং সার কার্ড জমা দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কার্ডের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করা হবে।
কৃষকদের দাবি, চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত তাদের কাছে সার পৌঁছে দিতে হবে। প্রশাসনের আশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার বিতরণ সম্পন্ন হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
প্রতিনিধি/এসএস




