হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আগেভাগেই শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যেবক্ষণাগার কার্যালয়।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসে অনুভূত হচ্ছে শীতের পরশ। ভোর থেকেই কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, পাথর ও চা শ্রমিক, ভ্যানচালকসহ কৃষকেরা জীবিকার তাগিদে সকাল সকাল কাজে বেরিয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। রাত গভীর হওয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত গায়ে কাঁথা নিতে হচ্ছে। হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছাকাছি হওয়ায় পঞ্চগড়ে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় শীতের আগমন কিছুটা আগেই ঘটে। অক্টোবর থেকেই শীতের আমেজ শুরু হলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতের তীব্রতা আরও বাড়ে।
শীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি পিঠা। ভাপা, চিতই ও পাকান পিঠার আয়োজনও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
এদিকে, দিনে তুলনামূলক গরম এবং রাতে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এমন আবহাওয়ার কারণে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
আরও পড়ুন
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে হিমেল বাতাস ও হালকা কুয়াশার প্রভাবে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শীতের অনুভূতিও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
প্রতিনিধি/টিবি




