সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শেরপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন বিধবা আকলিমা

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

শেরপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন বিধবা আকলিমা
বিধবা আকলিমা বেগমের ঘর।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গ্রামের বিধবা আকলিমা বেগমের দীর্ঘদিনের আবাসনসংকট কিছুটা দূর হয়েছে। জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপনের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ঘর পেয়েছেন তিনি। এতে নিরাপদে বসবাসের নতুন আশার আলো দেখছেন অসচ্ছল এই নারী।

দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের অনুপযোগী ঘরে দিন কাটছিল আকলিমার। সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ত। পানি ঠেকাতে বিভিন্ন পাত্র বসিয়ে রাখতে হতো তাকে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঘরটি মেরামত করা কিংবা নতুন করে নির্মাণের সামর্থ্য ছিল না তার।

দিনমজুর স্বামী আব্দুস সামাদের মৃত্যুর পর থেকেই আর্থিক সংকটে পড়েন আকলিমা। প্রায় ১০ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন তিনি। বয়স বৃদ্ধি ও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার পক্ষে কাজ করে আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই কাটছে তার দিন।

আকলিমার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। তার মেয়ে আজমিনাও নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মা-মেয়ের সংসারের ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সামান্য আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের দেখাশোনাও করতে হয় তাকে।

আকলিমার দুরবস্থা ও জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসের কষ্টের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

আরও পড়ুন

মাটির নিচে আদা, মাচায় সবজি: কৃষক সাত্তারের তাক লাগানো সাফল্য

নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আকলিমা। তার কাছে এই ঘর শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদে জীবন কাটানোর নতুন ভরসা।

আকলিমা বেগম বলেন, ‘আগের ঘরটি ভেঙে গিয়েছিল। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত, খুব কষ্ট হতো। নতুন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। জেলা প্রশাসক আমার জন্য যে ব্যবস্থা করেছেন, তা কোনো দিন ভুলব না। আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা দান করেন।’

আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের মতে, এ ধরনের সহায়তা অসহায় মানুষের আবাসনসংকট দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে নতুন করে জীবনযাপনের সাহস জোগায়।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। অর্থের অভাবে যারা মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না, তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আকলিমা বেগমের দুরবস্থার কথা জানার পর তার জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর