সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

টেকনাফে মানবপাচার সিন্ডিকেটের হোতাসহ গ্রেফতার ১৩

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

টেকনাফে মানবপাচার সিন্ডিকেটের হোতাসহ গ্রেফতার ১৩

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক যৌথ অভিযানে মানবপাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মো. কবির ওরফে ডা. কবিরসহ ১৩ জনকে আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এ সময় হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফের ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের নেতৃত্বে অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এসআরবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ব্যাটালিয়ন আনসারের ১০৫ কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।

অভিযানে গ্রেফতার মো. কবির ওরফে ডা. কবির (৬৫) টেকনাফের মানবপাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বলে জানিয়েছে ১৬ এপিবিএন। তিনি লেদা ক্যাম্প-২৪-এর এ/এলএমএস ব্লকের ২৯৪ নম্বর রুমে থাকতেন। তার সহযোগী হিসেবে মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বার (৪২) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, কবির ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচারের মামলা রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ডুবে যাওয়া একটি নৌযানও তারা পাঠিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই ঘটনায় ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছিল।

অন্যদিকে পৃথক অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আবু তৈয়ব (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তিনটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। একটি মামলায় তার চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়েছিল বলে জানিয়েছে ১৬ এপিবিএন।

এ ছাড়া ক্যাম্প এলাকায় ছোট ছোট দলে অভিযান চালিয়ে সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর এবং ক্যাম্পে অবৈধ প্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়।

এর মধ্যে ছয়জনকে ছয় মাস, ছয় মাস, ছয় মাস, পাঁচ মাস, তিন মাস ও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর চারজনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

অভিযানে রিকল মূলে আরও একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৩ জনকে আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ১৬ এপিবিএন।

এ বিষয়ে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, আটকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর