প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের নেতৃত্ব, নির্বাচনি অর্থের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খবির হোসেন। দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আদর্শচ্যুতির অভিযোগ তুলে তিনি দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান খবির হোসেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে তার সব ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটবে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খবির হোসেন অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের সভাপতি নুরুল হক নূর নেতাকর্মীদের কাছে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক লাখ টাকা করে সহায়তা চেয়েছিলেন। তার দাবি, প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মী ওই অর্থ দিয়েছিলেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা।
তবে এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা হিসাব তিনি দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনি তহবিলের অর্থের ব্যবহার নিয়ে তার উত্থাপিত প্রশ্নের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবির হোসেনের অভিযোগ, নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পরে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে একটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্ব। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত দলের আগের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার শামিল।
দলের নেতৃত্বের এমন অবস্থান এবং নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তাকে হতাশ করেছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
খবির হোসেন জানান, একটি সুস্থ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকেই তিনি গণঅধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে সেই নীতি ও আদর্শ বজায় রাখা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।
তার ভাষ্য, অনৈতিকতা ও দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করা তার ব্যক্তিগত নৈতিকতার পরিপন্থি। এ কারণে দলটির সঙ্গে আর সম্পৃক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে খবির হোসেন স্পষ্ট করেছেন, তিনি শুধু জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদই নয়, গণঅধিকার পরিষদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ভবিষ্যতে দলটির কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, নুরুল হক নূর বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবির হোসেনের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নুরুল হক নূর কিংবা গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এলএ




