রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নড়িয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, আহত ৪

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

নড়িয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, আহত ৪

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের চার নেতাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়ালের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন ছৈয়ালের দাবি, টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ নড়িয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নোমান চোকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল সিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান রাজিব। তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি কথা বলার জন্য শনিবার নোমান চোকদার ও মাসুদ খানকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন সালাউদ্দিন ছৈয়াল। সন্ধ্যার দিকে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে গেলে মাগরিবের নামাজ পড়তে যান নোমান। এ সময় মাসুদ খানের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন সালাউদ্দিন ছৈয়ালসহ কয়েকজন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

মাসুদ খানের ভাষ্য, সালাউদ্দিন ছৈয়ালের ডাকে তিনি ও নোমান চোকদার সেখানে যান। নোমান নামাজ পড়তে গেলে সালাউদ্দিন তাকে বলেন, তোরা ব্যবসা করে ভালো আছোস, আমাকে ৫০ লাখ টাকা দিবি।

মাসুদের অভিযোগ, এ কথা বলেই কালো কাপড়ে মোড়ানো একটি অস্ত্র বের করে তাকে মারধর শুরু করেন সালাউদ্দিন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে পেটানো হয়। এ সময় ইব্রাহিম নামে আরেক ব্যক্তির হাতে ছোট একটি অস্ত্র ছিল এবং তিনি তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলেও দাবি করেন মাসুদ। পরে নোমান চোকদার ঘটনাস্থলে এলে তার ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাজুল সিকদার ও দেওয়ান রাজিবও মারধরের শিকার হন।

দেওয়ান রাজিব বলেন, তারা একসঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। নোমান নামাজ পড়তে গেলে তিনি কিছুটা দূরে সরে যান। পরে চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে মাসুদ খানকে মারধর করতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে তার ওপরও হামলা হয়। এরপর নামাজ শেষে নোমান সেখানে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজিবের দাবি, তাদের পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন ছৈয়াল বলেন, কয়েক দিন আগে অংশীদারত্বে ব্যবসা করার কথা বলে মাসুদ খান ও নোমান চোকদার তার কাছ থেকে দুই দফায় ৪৪ লাখ টাকা নেন। পরে তারা একসঙ্গে জমি কিনে তা বিক্রিও করেন। লাভের টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

সালাউদ্দিনের ভাষ্য, অন্য অংশীদারেরা তাকে ব্যবসায় রাখতে চান না বলে মাসুদ ও নোমান তাকে জানান। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। গত শনিবার টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও তারা তা দিতে পারেননি। পরে উল্টো তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও কাউকে থামাতে পারিনি।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, সন্ধ্যায় মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আহত দুজন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর