সাভারে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেছেন, শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে সাভারে বায়ুদূষণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা, নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাভার উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাভারের এম কে কনভেনশন হলে ‘সাভারে বায়ুদূষণ রোধে ভোক্তাদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক সীমান্ত সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, এইচআরডিসির সভাপতি ও সনাক-টিআইবি সাভারের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সাভার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দীপক কুমার রায় এবং সাভার নাগরিক কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম।
সভায় বক্তারা বলেন, সাভারের শিল্পাঞ্চল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল এলাকায় ধুলাবালি, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা ও কলকারখানার নির্গমন বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এর ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকর করা, নিয়মিত পরিবেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে ক্যাবের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বায়ুদূষণ এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সংকটেও পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ভোক্তাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তরুণদের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং অধিকার লঙ্ঘিত হলে আইনি প্রতিকার নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ভেজাল পণ্য, ভুল ওজন, নিম্নমানের পণ্য ও পরিবেশদূষণ রোধে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইটভাটা ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সাভার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দীপক কুমার রায় বলেন, ভোক্তা অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে স্থায়ী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাঠ্যক্রমে পরিবেশ শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
সাভার নাগরিক কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম বাজারে পণ্যের গুণগত মান, মূল্য ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সাভারের বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও শিল্পাঞ্চলে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সাভার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জিয়াউর রহমান বলেন, বায়ুদূষণ ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
এমআর/ এজে




