নদীভাঙন থেকে ফসলি জমি, জনপদ ও বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নদীতীরবর্তী মানুষ। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। স্থানীয়দের দাবি, আগামী বর্ষার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নলচিরা ইউনিয়ন ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
হাতিয়ার মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ১০০ বর্গকিলোমিটার । দীর্ঘদিনের তীব্র নদীভাঙনে এর প্রায় ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। তাদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে দ্বীপটির আয়তন ও জনপদ আরও সংকুচিত হয়ে যাবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের মেঘনা নদীর তীরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের ভিটেমাটি ও জনপদ রক্ষার দাবিতে ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। তাদের একটাই দাবি—দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান তারা। নদীতীরবর্তী মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন হাতিয়ার মানুষের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। বছরের পর বছর নদীর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে তাদের। পানি বাড়লে কিংবা ভাঙন তীব্র হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। কখন বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়—এই আতঙ্কায় দিন পার করছেন নদীতীরের মানুষ।
বিশেষ করে নলচিরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বর্তমানে মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, বর্ষার আগে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো মানে শুধু জমি হারানো নয়, এর সঙ্গে হারিয়ে যায় মানুষের শৈশব স্মৃতি, জীবিকার অবলম্বন ও নিরাপদ আশ্রয়। তাই সাময়িক বা অপরিকল্পিত কাজ নয়, নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নলচিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা।
নদীতীরের মানুষ আর ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে চান না, তারা নিজের জন্মভূমিতে নিরাপদে টিকে থাকার নিশ্চয়তা চান।
মানববন্ধন থেকে তাদের প্রত্যাশা- প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। এবং আগামী বর্ষার আগেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
প্রতিনিধি/ এজে




