শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কয়েলের আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, পুড়ল গরু-ছাগল ও জমানো টাকা

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

কয়েলের আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, পুড়ল গরু-ছাগল ও জমানো টাকা
আগুনে পুড়ে ছাই বাড়িঘর। ছবি: ঢাকা মেইল

গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। খড় ও ছনের ছাউনির ঘরটিতে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। শেষ পর্যন্ত আগুনের কবল থেকে রক্ষা পাননি ৭০ বছরের বৃদ্ধ খোরশেদ আলম। বসতঘরের সঙ্গে পুড়ে গেছে একটি গরু, চারটি ছাগল, নগদ ৩২ হাজার টাকা ও ঘরের আসবাবপত্র। এক রাতের আগুনে প্রাণহানির পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া-কুমারপাড়া এলাকার সীমান্তঘেঁষা চরে এ আগুন লাগে।

নিহত খোরশেদ আলম ওই এলাকার গফুর হাজীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, ঘরে জ্বালিয়ে রাখা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে খড় ও ছনের ছাউনির ঘরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা মালামাল বের করে আনার সুযোগও মেলেনি। একপর্যায়ে আগুনে পুড়ে মারা যান বৃদ্ধ খোরশেদ আলম। পুড়ে মারা যায় তার গৃহপালিত একটি গরু ও চারটি ছাগল।

আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘর ও ভেতরে থাকা সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে বসতঘর হারানোর পাশাপাশি গবাদিপশু ও জমানো টাকাও হারিয়েছে পরিবারটি।

নিহতের এক ভাতিজা জানান, আগুনে তার চাচার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চাচার ঘর, একটি গরু, চারটি ছাগল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা পুড়ে গেছে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খোরশেদ আলমের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। জীবিকার প্রয়োজনে তার দুই ছেলে বাড়ির বাইরে থাকেন। তার স্ত্রী থাকতেন বটতলা মথরপাড়া গ্রামে। ফলে ঘটনার সময় ঘরে তার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন না।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আরও তিনটি অসুস্থ গরু রয়েছে। সেগুলোকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে নিহত বৃদ্ধের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর