শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রকোনায় নারী পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ২

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নেত্রকোনায় নারী পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ২
গ্রেফতার হাসিবুল হাসান (২৫) ও হাফিজুল হাসান রাব্বি (২৬)।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসা ৩৭ বছর বয়সী এক পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাদের নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার দুজন হলেন দুর্গাপুর পৌরসভার মধ্যবাজার এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে হাসিবুল হাসান (২৫) ও জালাল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল হাসান রাব্বি (২৬)। মামলার অপর আসামি একই এলাকার মৃত সিদ্দিকের ছেলে আশিক মিয়া (২৬) পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই নারী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকায় থাকেন। পূজার ছুটিতে গত ১৯ অক্টোবর ওই নারী দুর্গাপুরে নিজ বাড়িতে আসেন।

এজাহারে বলা হয়, পূজা উপলক্ষে তার খালাতো ভাই, পেশায় পুরোহিত যতন চক্রবর্তীও দুর্গাপুরে আসেন। স্থানীয় বিপিনগঞ্জ পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে তিনি ওই নারীর বাড়িতে যান। রাতের খাবার শেষে তারা নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী তিন যুবক ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। তিনি বাতি জ্বালিয়ে দরজা খুললে তাকে জোর করে টেনেহিঁচড়ে পাশের রান্নাঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসিবুল হাসান ও আশিক মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হাফিজুল হাসান রাব্বি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ওই নারী চিৎকার শুরু করলে তার খালাতো ভাই ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় তিনি তিনজনকে চিনতে পেরেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার পর মুঠোফোনে স্বামী ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান তিনি।

ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগী নারী প্রথমে ভয়ের কারণে বিষয়টি জানাতে পারছিলেন না। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা নেওয়া হয়। গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গ্রেফতার হাসিবুল হাসান ও হাফিজুল হাসান রাব্বি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর