বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কুমিল্লায় এক স্থানে মিলল ২২ বিষধর সাপ, পিটিয়ে মারল জনতা

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

কুমিল্লায় এক স্থানে মিলল ২২ বিষধর সাপ, পিটিয়ে মারল জনতা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সম্প্রতি সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সাপের আতঙ্ক। এরই মধ্যে উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে পুকুর পাড়ের লাকড়ির স্তূপের নিচ থেকে ২১টি সাপের বাচ্চা ও একটি বড় বিষধর সাপ পিটিয়ে মেরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  

বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামে সামসু মাস্টারের বাড়ির পুকুরপাড়ে এসব সাপ মারা হয়। এ সময় আরেকটি বড় সাপ গর্ত দিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ধান্যদৌল গ্রামে সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকেই গ্রামজুড়ে সাপ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড়ের দিকে বাড়তি সতর্ক নজর রাখছিলেন।

এরই মধ্যে বুধবার রাতে সামসু মাস্টারের বাড়ির পুকুরপাড়ে লাকড়ির স্তূপের নিচ থেকে চারটি সাপের বাচ্চা পাওয়া গেলে সেগুলো মেরে ফেলেন স্থানীয়রা। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একই স্থানে একটি বড় সাপ দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরে লাকড়ির স্তূপ সরিয়ে মাটি খুঁড়লে একের পর এক সাপের বাচ্চা বেরিয়ে আসে। এ সময় একটি বড় সাপ ও ১৬টি বাচ্চা পিটিয়ে মারা হয়। অন্য একটি বড় সাপ গর্ত দিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে ওই স্থান থেকে মোট ২২টি বিষধর সাপ মারা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি বাচ্চা ও একটি বড় সাপ রয়েছে।

ধান্যদৌল গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে সাপের কামড়ে আমাদের এলাকার এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকেই সবাই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে লাকড়ির স্তূপের নিচে সাপ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসী একত্রিত হন। পরে গর্ত খুঁড়ে ১৬টি বাচ্চা ও একটি বড় সাপ পিটিয়ে মারা হয়। এর আগের রাতেও চারটি বাচ্চা মারা হয়েছিল। তবে আরেকটি বড় সাপ গর্ত দিয়ে পালিয়ে গেছে।

একই স্থান থেকে একসঙ্গে এতগুলো সাপ ও সাপের বাচ্চা পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া বড় সাপটির আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে  ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে সাপগুলো মেরে ফেলেছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে ধান্যদৌল গ্রামে সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকেই এলাকায় বাড়তি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, সাপ দেখা গেলে নিজে থেকে ধরতে বা মারতে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা নিতে হবে। সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর