বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শায়েস্তাগঞ্জের জসিমের

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শায়েস্তাগঞ্জের জসিমের

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে তিন বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, ঘুচাবেন অভাব-অনটন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে সব স্বপ্নের ইতি টানলেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার যুবক জসিম উদ্দিন (২৫)। এখন তার নিথর দেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে। আর দেশে স্বজনদের চোখে অশ্রু, হৃদয়ে স্বজন হারানোর অসহনীয় বেদনা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে সৌদি আরবে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জসিম উদ্দিন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুদিয়াখলা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং স্বজনদের ভালো রাখার আশায় প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান জসিম। সেখানে কাজ করে পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতেন তিনি। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন এই যুবক।

দুর্ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রাইভেট কার তাকে সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মুহূর্তের মধ্যেই থেমে যায় জসিমের জীবনের পথচলা। যে যুবক পরিবারের স্বপ্ন পূরণে বিদেশের মাটিতে পরিশ্রম করছিলেন, সেই যুবকের মৃত্যুর খবরই এখন তার পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ।

সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা দুর্ঘটনার খবরটি হবিগঞ্জে তার পরিবারের সদস্যদের জানান। প্রিয় সন্তানের মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ।

পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনেরা এখন দিশাহারা। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকা সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাদের।

প্রতিবেশীরা জানান, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জসিম উদ্দিন ছিলেন সবার ছোট। শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসেই তার জীবনপ্রদীপ নিভে গেল।

যে বয়সে পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, সেই বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন জসিম। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতের দুই চাচাতো ভাই সৌদিপ্রবাসী রাজু ও শিপন জানান, দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকারের চাপায় ঘটনাস্থলেই জসিমের মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

তারা জানান, পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে চান। তাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত জসিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ অবস্থায় নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জসিমের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তাক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।

প্রবাসে উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের যে প্রত্যাশা নিয়ে জসিম বিদেশে গিয়েছিলেন, তা আর পূরণ হবে না। এখন তার স্বজনদের একটাই আকুতি-প্রিয় সন্তান ও ভাইয়ের মরদেহ যেন দ্রুত দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয়, যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, মৃত্যুর ঘটনা লোকমুখে শুনেছি।

প্রতিনিধি/এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর